ব্যাংকখাতে নারী চাকরিজীবীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজারের বেশি
ব্যাংকখাতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কয়েক বছর ধরে বাড়ার পর ২০২৫ সালে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ হাজার ৫৮৮ জন কমে ৩৫,০৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একাধিক ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠনের পর অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বড় পতন হয়েছে এবং বছরের শেষ ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) নারী জনবল আরও ৭২১ জন কমেছে।
ব্যাংকের ধরনভেদে দেখা যায়, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মী সবচেয়ে বেশি (২২,৯৮৩ জন), যা মোট জনবল ১৬.১৩%। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নারী কর্মী রয়েছেন ৯,১৪৭ জন (১৬.৯০%), আর বিদেশি ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে কম ৯৮৪ জন হলেও অংশগ্রহণের হার ২৫.০৩%।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২,১২,৪২৭ জন, যার মধ্যে নারীর অংশ ১৬.৫০ শতাংশ। বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকে নারী জনবল সামান্য কমলেও, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ব্যাংকের বোর্ড সদস্য হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ১৩.১১% এবং উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ কমে ১০.৩৫%। পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সী নারী কর্মকর্তাদের হার ১০.৯২%, যেখানে ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের হার ২১.২২%। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের হার ২৯.৫৯%, যা সামগ্রিক ব্যাংকখাতের তুলনায় বেশি।
বর্তমানে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর রয়েছে। সব ব্যাংকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা থাকলেও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ৩৮টি ব্যাংক ও ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া ৩৮টি ব্যাংক নারী কর্মীদের জন্য যাতায়াত সুবিধা প্রদান করছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে