Views Bangladesh Logo

সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফজলুল হক আমিনীকে। অভিযোগ, ফেসবুকে লাইভ করে তিনি শামীমের বিরুদ্ধে জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে দেবহাটা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। নিহতের বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে করা এ মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শহীন বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমকে দুই দফা গণপিটুনি দেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ওসি জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে প্রথম দফা গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে একটি দল মিছিল নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে আবার মারধর করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত সব আসামির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। অভিযোগ, তিনি ফেসবুকে লাইভ করে শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে জনতাকে জড়ো করেছিলেন।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বয়স ৪০ বছর। তিনি দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী একই উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফজলুল হক আমিনী ফেসবুকে লাইভ করেন এবং লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে শামীমের ইসলামবিরোধী কথাবার্তার একটি অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়।

শামীমের মৃত্যুর পর ফজলুল হক আমিনী বলেন, শামীম আল্লাহ, রাসুল ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। তাঁর দাবি, ‘তৌহিদী জনতা’ গণপিটুনি দিয়ে শামীমকে হত্যা করেছে।

তবে নিহতের ছোট ভাই সাগর সানা বলেন, শামীম মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন সাগর।

তিনি বলেন, শামীমের স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়ার সময় তাঁর কথাবার্তা কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে তাঁদের ধারণা। ওই ঘটনার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে কুলিয়ার এক গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেও হামলা চালানো হয়।

সাগর সানা বলেন, শামীম কোনো আপত্তিকর কথা বলে থাকলেও তাঁর বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত ছিল। এভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ