ফটিকছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন, উত্তরাঞ্চলে অচল জনজীবন
নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তরাঞ্চলে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি পালন করায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভোর থেকেই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। বালুটিলা, সোনাইপুল ও নারায়ণহাট এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। ফলে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
হরতালের প্রভাবে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘি-হেয়াঁকো সড়কে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটক হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, জরুরি সেবাসমূহ হরতালের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মতামত দিন