Views Bangladesh Logo

খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় তার বাবা আকাশ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মো. আসাদুর জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজারের চায়ের দোকান থেকে র‍্যাব ও খুলনা সদর থানা-পুলিশ যৌথ অভিযানে আকাশকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই সকালে নির্জনা তার স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। পরে বিকেলে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলেন এবং গলা চেপে ধরেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় বাবা আকাশ কাঠের একটি চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি নির্জনার মাথায় আঘাত করে। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আকাশ।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নির্জনার হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে ফিরে রক্তের দাগ মুছে ফেলা হয় এবং পরদিন সকালে মা-বাবা দুজনেই পালিয়ে যান।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে নির্জনার মা সীমাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ধীরে ধীরে ঘটনার বিস্তারিত জানান।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ