কাতারে দেশীয় পোশাকের ফ্যাশন শো
কাতারের মঞ্চে "বি দেশি" শীর্ষক ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করেন বাংলাদেশের তাসমিত আফিয়াত আরনি। নিজের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইড ফ্যাশন হাউসের মাধ্যমে এ আয়োজন করেন বাংলাদেশি এ ফ্যাশন ডিজাইনার।
সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস ও কাতার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কাতারে ফ্যাশন শো টি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনের মূল মন্ত্র ছিল কাতারের বাসিন্দাদের কাছে জামদানি, নকশি কাঁথা, রাজশাহীর সিল্ক, গামচা, এবং হাতে বোনা পণ্যের মতো বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশি টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শন করা এবং কাতার ভিত্তিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশীয় পণ্যের চাহিদা উপস্থাপন করা।
আয়োজন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তাসমিত ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, "যখন আমরা বিদেশিদের জামদানি, নকশি কাঁথা, সিল্ক, গামচা, এবং হাতে বোনা শাড়ি বা কামিজ দেখাই, তারা হয়তো সেগুলো খুব বেশি কেনে না বা সেভাবে মনোযোগও দেয় না। তাই, আমরা এখানে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যক্তিদের এগুলো সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি। আমরা মনে করছি, আমাদের এ পদক্ষেপ দেশীয় টেক্সটাইল এবং একই সঙ্গে আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। "
কাতারে বাংলাদেশের পোশাকের উপযোগিতা তুলে ধরে এ ফ্যাশন ডিজাইনার আরও বলেন, "কাতারের আবহাওয়া ধারাবাহিকভাবেই গরম। তাই আমাদের দেশীয় পোশাক এখানকার মানুষের জন্য বেশ আরামদায়ক। তবে পোশাকের ডিজাইন, আকার এবং শৈলীর ক্ষেত্রে তাদের পছন্দ অনুসারে তৈরি করা দরকার। "
তিনি আরও জানান, "এ আয়োজনে ৩৬ টি ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দৈনন্দিন ব্যবহৃত পোশাকের উপর মনোযোগ দিয়ে আমরা কাজ করেছি। "
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শো তে উপস্থিত হয়ে এটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছেন উল্লেখ করে তাসমিত বলেন, এই ইভেন্টে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি কাতারের ফ্যাশন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে। গলফ বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, আব্দুল মতিন পাটোয়ারী সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, গ্রীন রেড স্টুডিওস ইভেন্ট এবং রাসার হারিও এই ফ্যাশন শোটির আয়োজনে অবদান রেখেছে।
ইভেন্টটি সমস্ত মহল থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে এবং অতিথিরা মিলান ফ্যাশন সপ্তাহের সঙ্গে এটিকে তুলনা করেছেন।
তাসমিতের ডিজাইন করা পোশাকের নকশায় নজরকাড়া অনুসঙ্গের মধ্যে ছিল, রিকশা-পেইন্ট, জামদানির ঐতিহ্য, ভাষা শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চিত্র। এর আগেও, তাসমিত দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছিলেন। তিনি মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের জন্য "রিকশা হুড" ডিজাইন করেছিলেন, মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল, মিস ট্যুরিজম ওয়ার্ল্ড, মিস ল্যান্ডস্কেপ ইন্টারন্যাশনাল, মিস চার্ম ইন্টারন্যাশনাল এবং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং এমনকি তার নিজের বিয়েতে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে