Views Bangladesh Logo

কুড়িগ্রামে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৬০ জন কৃষক ৬০ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রোপা-আমনের ভরা মৌসুমে গত তিন দিন ধরে এলাকায় সারের সংকট চলছে। রোববার সার দেওয়া হবে—এমন খবর পেয়ে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক কৃষক ধলডাঙা বাজারে ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্টের দরজা না খোলায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান। গুদামে থাকা ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সারের মধ্যে তারা ২০২ বস্তা নিয়ে যান, যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কেজি।

কৃষকদের অভিযোগ, শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেলেও তা সময়মতো সরবরাহে গড়িমসি করেছেন। ফলে আমন মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তবে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী তিনি ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছিলেন। রোববার সার বিতরণের সময় বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা হলেও উত্তোলন করা হয়েছে তার চেয়ে কম। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের তৎপরতায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬০ জন কৃষক ৬০ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সারের সংকটের প্রকৃত কারণ এবং ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ