অতিবৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের মৃত্যু
অতিবৃষ্টির পানিতে নিজের আবাদ করা ধান তলিয়ে যেতে দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক আহাদ মিয়া (৫৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৫০ হাজার টাকা ধার করে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জমির ধান তিন দিন ধরে পানির নিচে ডুবে ছিল। এই পরিস্থিতি দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।
চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে সব জমি পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখে ভেঙে পড়েন আহাদ মিয়া।
তার বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, ধানের ক্ষতি দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, ছয় বিঘা জমির সব ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি তিনি সহ্য করতে পারেননি।
জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগরের হাওর এলাকায় অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা অপরিপক্ব ধান কেটে তুলছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছে, যাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, পানির নিচে কয়েকদিন থাকায় ধানে পচন ধরছে, আবার অনেক ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তার ২০ কানি জমির মধ্যে মাত্র পাঁচ কানি ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি জমি এখনো পানির নিচে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, আহাদ মিয়া জমিতে কাজ করতে গিয়ে মারা গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে