Views Bangladesh Logo

'মামলা করতে চায় না কথিত পীর শামীমের পরিবার'

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে 'শামীম বাবার দরবার শরিফ' এ হামলা চালিয়ে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা করা হয়।

শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

এই ঘটনার পর ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখনও কোন মামলা দায়ের হয় নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।

এদিকে নিহত শামীমের পরিবার জানিয়েছে এই ঘটনায় তারা মামলা করতে চাচ্ছে না।

নিহতের বড় ভাই গোলাম রহমান বলেন, 'আমরা বুঝতে পারতেছি না আসলে কী করবো। আমার ভাই মারা গেছে। আপাতত এতটুকুই। আমরা খুব নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না বলে মামলাও করতে চাই না।'

তবে ঠিক কী কারণে মামলায় আগ্রহী নন সেটি তিনি বলতে চাননি।

শামীমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল এবং বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মোর্তুজা।

তিনি বলেন, 'ওই সময় আমি এই থানায় ছিলাম না। তবে আমরা শুনেছি সে তিন মাস জেল খেটেছিল তখন।'

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার বলেন, তিন বছর আগের একটি ভিডিও'র সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে শামীমের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এসময় তারা শামীমসহ তিনজনের উপরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে আহত অবস্থায় তাদের তিনজনকে দৌলতপুরের থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে শামীমকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পরে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার কিছু ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, শামীমের মৃত্যু হলেও হামলাকারীদের উত্তেজনা কিছুতেই কমছিল না। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ওই দরবার এলাকায় শত শত মানুষ অবস্থান করছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই সেখানে ভাঙচুর চালানো হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কেন ব্যর্থ হলো এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, 'হামলালারীদের মধ্যে ভয়ানক আক্রোশ কাজ করছিল। শত শত উত্তেজিত মানুষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।'

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ