১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
২০২৬–২৭ অর্থবছরে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এদিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে এর আওতা বাড়িয়ে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, যোগ্য কেউ যেন বাদ না পড়ে এবং অযোগ্য কেউ যেন উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়—সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ লক্ষ্যে উপকারভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনা করা হবে। কোনো পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সেই অনুযায়ী তথ্যভান্ডার সংশোধন করা হবে। যেসব পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে যাবে, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অন্যদিকে নতুন করে যোগ্য হয়ে ওঠা পরিবারগুলোকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডকে স্থির কোনো তথ্যভান্ডার হিসেবে রাখতে চায় না। বরং এটিকে একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা ও আর্থসামাজিক অবস্থার বাস্তব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনিয়মের সুযোগ কমবে।
তিনি জানান, উপকারভোগী নির্বাচন ও সুবিধা বিতরণে ভুল বা অনিয়ম ঠেকাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনে নতুন করে তদন্তও করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হবে—এমন একটি নির্ভুল, প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য উপকারভোগীদের তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর আগামী চার বছরে এর আওতা বাড়িয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন কৌশল, উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য যাচাই, তথ্যভান্ডার ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতামত দিন