ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম কাল শুরু
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর কড়াইল এলাকায় নারীদের হাতে এ কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই দিন সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রকল্পের বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে সংবাদ সম্মেলন করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এ কার্ড দেওয়া হবে।
এর আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কয়েক দিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বগুড়ায় হবে। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ঢাকার কড়াইল এলাকায় উদ্বোধনের কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল (শাহ আলী) ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) ও বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায়।
এ ছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই কার্যক্রম শুরু হবে।
উপকারভোগী নির্বাচন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ স্তরের কমিটি কাজ করবে। এগুলো হলো—উপজেলা (শহর) কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, পৌর (শহর) কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি। সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে মন্ত্রিসভা কমিটি, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
এছাড়া জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা (ডেটা ম্যানেজমেন্ট) কমিটি থাকবে, যার প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সরকারি নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড একটি একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তা কর্মসূচির ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে। তবে অগ্রাধিকার পাবে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবার। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো বৈষম্য থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলট কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবারের মা বা নারীপ্রধানের নামে কার্ড ইস্যু করা হবে। কার্ডধারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। এতে নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে