লালন সাঁইয়ের দর্শনের সঙ্গে ইসলামের কোনো বিরোধ নেই: ফরহাদ মজহার
কবি, চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শনের সঙ্গে ইসলামের কোনো বিরোধ নেই। লালন ইসলাম সংস্কারের উদ্দেশ্যে কাজ করেননি, আবার শরিয়ত-মারফত নিয়েও কোনো বিতর্কে জড়াননি। তিনি নিজস্ব একটি ভাবধারার কথা বলেছেন, যা ‘নদীয়ার ভাবের ভুবন’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যে ‘ফকির লালন সাঁই বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি।
ফরহাদ মজহার বলেন, লালনের ভাবচর্চাকে দর্শন, ভাব ও রসচর্চার ধারার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। বাংলার এই ভাবজগতের বিকাশে তন্ত্র, রস ও ভাব—এই তিনটি স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে ভিন্নমত বা তর্ক থাকতেই পারে, তবে তা যেন কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় চারজন সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন জামায়াতের। তাদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। জামায়াতের অতীতের অনেক নেতা লালনের দর্শন সম্পর্কে আরও বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, তারা বুঝতেন যে ইসলামের সঙ্গে ফকির লালনের কোনো বিরোধ নেই।
লালনের গানের ভাষা ও ভাব নিয়েও আলোচনা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ফারসি শব্দের ব্যবহার এবং রূপক প্রয়োগের মাধ্যমে লালন তাঁর গানে গভীর ভাব প্রকাশ করেছেন। গানের বক্তব্য আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে এর রূপক অর্থ অনুধাবনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফকিরদের মধ্যে কিংবা সমাজে ভাবগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগে কিংবা লালনের মাজার ও তাঁর দর্শনকে ঘিরে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়। এ বিষয়ে সম্ভাব্য নানা ধরনের ঝুঁকি তিনি ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে লালনের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ-আল মামুন, অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী, আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার, জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।
সেমিনারে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, লালন একাডেমির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও লালনভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন