Views Bangladesh Logo

ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে ফেসবুক লাইভ, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে ফেসবুক লাইভে আলোচনায় আসা রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে ইউএনওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে রেহেনা বেগম উর্মিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মনোয়ার, যিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার দুপুরে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় রেহেনা বেগম ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও তার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। লাইভে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে টাকা ফেরতও দাবি করেন।

পরে একই দিন তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ছেলেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ইউএনও টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং তিনি কখনো তার দপ্তরেও আসেননি। তার ভাষ্য, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছিল এবং অভিযোগকারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও ছিল না।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ইউএনওর সমর্থনে তেঁতুলিয়ায় দুটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম ইমাম রাজী টুলু জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)কে। উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে রেহেনা বেগম দাবি করেছেন, তিনি মায়ের জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ইউএনওকে দিয়েছিলেন। ইউএনওর বদলির খবর জানার পর টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। এরপর বাধ্য হয়েই তিনি ফেসবুক লাইভে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ