শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে প্রস্তাব ও ইন্টারপোলে রেড নোটিশের আবেদন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তার নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির জন্যও আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্যক্রম জোরদার করেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে কয়েকজন আসামিকে দেশে ফিরিয়েও আনা হয়েছে। হত্যা মামলার আসামি ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে গত ৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরানো হয়। আরেক হত্যা মামলার আসামি মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়েও অগ্রগতি জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা বেনজীরকে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আবুধাবিতে ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পারস্পরিকতার নীতির আওতায় সহযোগিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে দেশটি। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র গত ৪ আগস্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টিতে সহযোগিতার জন্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি ল' ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ এখনো চলমান বলে জানান মন্ত্রী।
মানব পাচার মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা পলাতক মোল্লা নজরুল ইসলামকেও সম্প্রতি লিবিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে ফেরাতে গত ১৬ মার্চ কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্যান্য পলাতক আসামিকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন