ছয় ইউপি সদস্যর কাছে চাঁদা দাবি, মিলল একজনের মরদেহ
‘থানা থেকে বলছি, তোমার নামে মামলা হচ্ছে। নাম বাদ দিতে হলে আজ রাতের মধ্যেই ২ লাখ টাকা দিতে হবে। নাহলে পুলিশ তোমাকে বাড়ি থেকে ধরে আনবে।’ এমন কথা শুনে ভয়ে রাতে বাড়ি থেকে বের হবার পর ভোরে গ্রামের মাঠের ড্রেনের পাশে পাওয়া গেছে আমিনুল ইসলাম (৫০) নামের এক ইউপি সদস্যের মরদেহ। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
একইভাবে ওই ইউনিয়নের আরও ৬ জন মেম্বারের কাছেও মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেছে অজ্ঞাতপরিচয় চাঁদাবাজরা। এদিকে নিহতের ঘটনায় তার পরিবার কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিলেও পুলিশ বলছে, অভিযোগটি প্রথমে দেয়ার পরেই আবার সেটি তুলে নিয়েছে ভুক্তভোগীরা। চাঁদার বিষয়ে পুলিশের কাছে বলছে, একটি প্রতারকচক্র ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা চেয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।
নিহতের কন্যা পুকুরিয়া গ্রামের আফরোজা খাতুন তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ মার্চ রাত ১০টায় তার বাবা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত ০১৭২৪-০৮২১৩২ নম্বর মোবাইলে অজ্ঞাতপরিচয় ০১৩১৪-৮৯২০২১ নম্বর থেকে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলে আমি থানার পুলিশ বলছি। আপনার নামে থানাতে একটি মামলা হচ্ছে। এই মামলা থেকে নাম খারিজ করতে ২ লাখ টাকা দিতে হবে। ফোনে এমন কথা শুনে আমিনুল টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অপর প্রান্তের অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে গালাগাল, হুমকিসহ বাড়ি থেকে তুলে নেবার নানা ভয়ভীতি দেয়।
বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে তার বাবা রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি তিনি। পরদিন ১৬ মার্চ ভোরে পুকুরিয়া গ্রামের মাঠের একটি ড্রেনের পাশ থেকে আমিনুলের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তবে, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, এর সঠিক কোনো কারণ কেউ বলতে পারেনি। এ ব্যাপারে পরিবার ও গ্রামবাসীর ধারণা, অজ্ঞাত চাঁদাবাজদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে গিয়ে স্ট্রোক করে হয়তো মারা যেতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের কন্যা কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে ওই রাতেই একই দাবিতে সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের ইউনুচ আলী, টিটো, মুনছুর আলী, সিদ্দিক বিশ্বাস, আকবর আলী ও আমিনুল ইসলাম নামে ৬ জন ইউপি সদস্যের কাছে পুলিশ পরিচয়ে ফোন দেয়া হয়। এ সময় মামলার ভয় দেখিয়ে মোবাইলে তাদের থেকেও টাকা দাবি করে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি।
ওই ইউনিয়নের সদস্য ইউনুচ আলী বলেন, ‘একইদিন রাত ৯টা ৫২ মিনিটে একই মোবাইল নং থেকে থানার এএসআই মাসুদের পরিচয়ে তাকে কল দেয়া হয়। এ সময় তাকে বলে, তুই আওয়ামী লীগ করিস, তোর নামে মামলা হচ্ছে। মামলা থেকে নাম খারিজ করতে ২ লাখ টাকা দিবি।’ ইউনুচ মোবাইলে কথা বলা ব্যক্তির সঙ্গে থানাতে দেখা করতে চাইলে গালাগাল ও দেখে নেবার হুমকি দেয়া হয়। ইউনুচ আরও জানায়, একই রাতে তার মতো আরও ৬ জন ইউপি সদস্যকে মোবাইলে হুমকি দিয়েছে ওই প্রতারক চক্রটি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, মৃত ব্যক্তির স্বজন থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন; কিন্তু কিছু সময় পরই আবার অভিযোগটি তারা তুলে নেয়। তিনি বলেন, পুলিশ পরিচয়ে চাঁদা দাবিকৃত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নং খতিয়ে দেখেছেন। ওই নামে বা ওই নম্বরের কোনো মোবাইল অত্র থানায় কারও নেই। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে