ধর্ষণ মামলায় শিবির নেতা জিসানকে আদালতে নেওয়া হল
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রশিবিরের নেতা জিসান মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জিসানকে সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দিলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আ. বারী বলেন, 'চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে জিসানকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল থেকে ডিবি হেফাজতে আছেন। তারা তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে নিয়ে যাবেন।'
গ্রেপ্তারের পর জিসান সুস্থ না অসুস্থ — এ বিতর্ক এড়াতে রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, বোর্ড গঠনের পর বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়। তাতে জিসান সুস্থ বলে প্রমাণ পাওয়ায় মঙ্গলবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরে বিয়ের চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগের রাতেই অর্থাৎ ১১ জুন জিসান আত্মগোপনে চলে যান। গত শুক্রবার রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই বাদী নারী জিসানকে প্রধান আসামি করে এবং ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে জিসান পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।
ওসি মো. আ. বারী জানান, এ মামলায় জিসান ছাড়াও অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
মতামত দিন