ছাত্র আন্দোলনে হামলা-গুলি: সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে মামলা
জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলি করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আবদুল হামিদ ছাড়াও বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ব্যাপারে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে তহমুল ইসলাম নামের এক তরুণ কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেছেন। মামলাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গড়ে ওঠা ঐক্য-আন্দোলনকে দমন করতে দেশ-বিদেশে অবস্থান করা ১ নম্বর থেকে ২০ নম্বর আসামি সারা দেশে গণহত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক তারা কিশোরগঞ্জে যাতে কোনও আন্দোলন হতে না পারে সেজন্য ২১ থেকে ৪০ নম্বর আসামিদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ৪১ থেকে ১২৪ নম্বর আসামিরা শটগান, বন্দুক, পিস্তল, ককটেল, বোমা ও দেশি অস্ত্র এবং অর্থ সরবরাহ করে আন্দোলন দমাতে এবং গণহত্যার নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী তহমুল ইসলাম বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মামলা করেছেন।
এদিকে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় অর্ধশত মামলা হয়েছে। এই প্রথম এসব মামলার কোনো মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ৩ নম্বর আসামি করা হলো। শেখ হাসিনাকে ওই মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আর ২ নম্বরে রয়েছে শেখ রেহানার নাম।
মতামত দিন