থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে স্ক্রিনিংয়ের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (এইচএসবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় দেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নজমুল হোসেন।
তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এর প্রতিরোধে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তারা।
বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য বংশগত রোগ। যথাযথ সচেতনতা, বিয়ের আগে স্ক্রিনিং এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি আয়রন কিলেশন ওষুধের মূল্য হ্রাস, ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।
অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান। রোগীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ, বৈজ্ঞানিক বিষয়ক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুল ইসলামসহ দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, থ্যালাসেমিয়া রোগী ও তাদের পরিচর্যাকারী, সোসাইটি অব ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের প্রতিনিধি, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে