কিশোরগঞ্জে বাড়ির পাশের গাছে হাত-পা বাঁধা প্রবাসী যুবকের মরদেহ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক প্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্বনয়াহাটি গ্রামে বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম রোকন উদ্দিন (২৫)। তিনি ওই গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে। প্রায় তিন বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেড় মাস আগে দেশে ফিরেছিলেন রোকন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে রোকনের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
রোকনের বাবা ছাত্তার মিয়া জানান, সোমবার রাতে তিনি কৃষিজমিতে সেচপাম্প চালানোর জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন রোকনের মা হনুফা বেগম ও বড় ভাই। রোকন বাড়ির একটি আলাদা কক্ষে থাকতেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রাত একটার দিকে রোকন ঘর থেকে বাইরে বের হন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি মুঠোফোনে কথা বলার জন্য বাইরে গেছেন। এরপর তিনি আবার ঘরে ফিরেছিলেন কি না, তা কেউ বলতে পারেননি।
ছাত্তার মিয়া বলেন, কারা বা কী কারণে তার ছেলেকে হত্যা করতে পারে, সে বিষয়ে পরিবারের কোনো ধারণা নেই।
রোকনের মা হনুফা বেগম জানান, মরদেহের কাছ থেকে রোকনের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি পাওয়া গেছে। তবে ফোনটিতে কোনো সিম কার্ড ছিল না।
প্রতিবেশীরা জানান, সিঙ্গাপুর থেকে দেড় মাস আগে দেশে ফেরার পর রোকন স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে করে কক্সবাজারে যাওয়ার কথা ছিল তার।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় হত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওসি বলেন, তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। আবার হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন