জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর শহীদের রক্তে লেখা: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর কলমের কালো কালি দিয়ে নয়, বরং সকল শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা। শহীদদের এই ত্যাগের দায়মোচন করতেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছেছে এবং সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) আয়োজিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
শাবির সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় আলী রীয়াজ বলেন, “বিগত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাঁরা নিপীড়িত হয়েছেন, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারা আমাদের হাতে একটি দায়িত্ব রেখে গেছেন। সেই দায়িত্ব হলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত করা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সংবিধানে এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই দুর্বলতা দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সনদ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে রাষ্ট্র মুক্ত হবে।”
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী অধস্তন থেকে সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডিত যে কাউকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন, যা অতীতে ভয়াবহভাবে অপব্যবহৃত হয়েছে। বাস্তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় কার্যকর হয়েছে। জুলাই সনদে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কাউকে ক্ষমা না দেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গণভোটের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা থাকলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর একক ইচ্ছায় কমিশন গঠনের নজির রয়েছে। ভবিষ্যতে এই অনিয়ম ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলো এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলের মাধ্যমে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলীমূল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহমেদ।
এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে