Views Bangladesh Logo

ইউরোপের দেশগুলোর এবার বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফার নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালালে ২০২৬ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপ বর্জনের মতো কঠোর পদক্ষেপও বিবেচনায় নিতে পারে ইউরোপের দেশগুলো। এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

মঙ্গলবার ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম একত্রে পরিচালিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফইর নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা। নতুন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার।

ফিফার দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন মিললে এই বিনিয়োগের অর্থ থেকে আগামী চার বছরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করা সম্ভব হবে। তবে এই পরিকল্পনাকে ফুটবলের পরিচালনব্যবস্থায় বেসরকারি প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে উয়েফা।

ফিফার ঘোষণার পরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় ইউরোপীয় সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার করা উচিত নয়। উয়েফার ভাষ্য, ফুটবলের ভবিষ্যৎ ও এর পরিচালনব্যবস্থা কখনোই বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত হতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহেই উয়েফাভুক্ত ৫৫টি দেশের ফুটবল সংস্থাকে নিয়ে জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বর্জনের মতো পদক্ষেপও আলোচনায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় ইউরোপের দেশগুলো।

উয়েফা ও ফিফার টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। সে সময়ও উয়েফার তীব্র বিরোধিতা ও বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। এবারও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি কারণে। জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন নিউইয়র্কে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক হলেও সেখানে ফিফা এই পরিকল্পনার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। পরে হঠাৎ করেই এটি প্রকাশ্যে আনা হয়। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, তারা আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানত না।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদ নয়; এটি সেই লাখো সমর্থকের, যারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাঠে গিয়ে নিজেদের দলকে সমর্থন করেন।

সব মিলিয়ে ফিফার নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রভাবশালী সংস্থার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। উয়েফার আসন্ন বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে, এই বিরোধ কেবল কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরেও প্রভাব ফেলবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ