২৭ বছর পর আজ ইউরোপে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, কোথায়-কখন দেখা যাবে
২৭ বছর পর ইউরোপের আকাশে আবারও দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। বুধবার (১২ আগস্ট) কয়েক মিনিটের জন্য চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের আলো। দিনের বেলাতেই ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার। উত্তর মেরু সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে গ্রহণের পূর্ণতার পথ রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড পেরিয়ে স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে পৃথিবীর কোনো এক স্থানে প্রথম আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। এরপর চাঁদের ছায়া ধীরে ধীরে পৃথিবীর ওপর অগ্রসর হবে। পূর্ণগ্রহণের প্রধান পথ পড়বে উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের ওপর দিয়ে। পরে তা স্পেন অতিক্রম করবে এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামান্য অংশ থেকেও পূর্ণগ্রহণ দেখা যাবে। এই অঞ্চলগুলোর প্রায় দেড় কোটি মানুষ সরাসরি পূর্ণগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।
ইউরোপের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু এলাকা, কানাডার অধিকাংশ অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জায়গা থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিশ্বের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ সূর্যের আংশিক ঢাকা পড়ার দৃশ্য দেখতে পারেন। ইউরোপের অনেক শহরে সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে গ্রহণটি দৃশ্যমান হবে। প্যারিসে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ, লন্ডনে ৯১ শতাংশ এবং বার্লিনে প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে পারে।
তবে ইউরোপের সব জায়গা থেকে পূর্ণগ্রহণ দেখা যাবে না। আইসল্যান্ড ও স্পেনের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য মিলবে। স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল ও ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহর পূর্ণগ্রহণের পথের মধ্যে রয়েছে। উত্তর স্পেন হয়ে গ্রহণের ছায়া এগিয়ে যাবে এবং বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের কিছু এলাকাতেও এর প্রভাব পড়বে। স্পেনের উত্তরাঞ্চলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে পূর্ণগ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জায়গাভেদে সম্পূর্ণ অন্ধকারের সময় ৩০ সেকেন্ড থেকে প্রায় ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড হতে পারে।
উত্তর আমেরিকায় অবশ্য পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কানাডার সেন্ট জনসে সূর্যের প্রায় ৫৩ শতাংশ, মন্ট্রিয়লে ১৮ শতাংশ এবং টরন্টোতে প্রায় ৮ শতাংশ অংশ ঢাকা পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ফেয়ারব্যাংকস ও অ্যাঙ্কোরেজে যথাক্রমে প্রায় ৩৭ ও ২৮ শতাংশ গ্রহণ দেখা যেতে পারে। মেইনের ব্যাংগোরে প্রায় ২৪ শতাংশ, নিউইয়র্কে ৯ শতাংশ এবং ডেট্রয়েটে মাত্র ৩ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পূর্ণগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড, যদিও অবস্থানভেদে সময়ের পার্থক্য থাকবে।
যারা গ্রহণের পূর্ণতার পথে অবস্থান করছেন না, তাঁরাও অনলাইনে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবেন। নাসা সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখাবে। এদিকে মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবারের গ্রহণের পর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণের জন্য। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট ফের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে, যার পথ স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ওপর দিয়ে যাবে।
মতামত দিন