চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় সম-অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি
চট্টগ্রামে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম-অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। শুক্রবার সকালে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়।
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। আন্দরকিল্লা মোড় থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি লালদিঘীর পাড়, কোতোয়ালি মোড়, নিউ মার্কেট, রাইফেল ক্লাব, বোস ব্রাদার্স, বৌদ্ধ মন্দির ও মোমিন রোড ঘুরে জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন পর্বের ঘটনা তুলে ধরে নানা সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। ঢাক-ঢোল, বাঁশির সুর আর শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। পাশাপাশি অনেকের হাতে ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।
শোভাযাত্রা চলাকালে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’—ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই বাণীকে সামনে রেখে তারা এগিয়ে যেতে চান। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথাও বলেন তিনি।
পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, অসাম্প্রদায়িক, সাম্য ও মৈত্রীর বাংলাদেশ গড়ার বার্তা শোভাযাত্রা থেকে দিতে চান তারা। সব ধর্মের মানুষের সম-অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে পারেন এবং চাকরিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশি হিসেবে তাদের অধিকার নিশ্চিত হয়—এ দাবিও জানান তিনি।
শোভাযাত্রায় ‘সনাতনী অধিকার আন্দোলন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি’র নেতাকর্মীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ বন্ধ, সংবিধান অনুযায়ী সম-অধিকার নিশ্চিত, দেশান্তরের কারণের জবাব এবং ‘৮ দফা’ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার ও ফেস্টুনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, ধর্ষণ, দেবালয় ভাঙচুর, দখল, অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক উসকানির ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, উদ্বোধক হিসেবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। অতিথিদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু বলেন, তারা বিকেলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে ‘ধর্ম সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মতামত দিন