ভোটে সবার নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটারদের নিরাপদ ও অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের দল ও সমর্থকদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভোটারদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
আজকের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগের দিন দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক কার্যালয় জানায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য নারী প্রার্থী ও ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহভাবে জনজীবনে অংশগ্রহণ করা একটি মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে নারী ও কিশোরীদের অধিকার অন্তর্ভুক্ত—বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, জেন্ডার-বৈচিত্র্যময় ব্যক্তি এবং যাঁরা বৈষম্য, প্রতিবন্ধকতা বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এর মধ্যে ডিজিটাল হয়রানিও রয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবনে নারীরা সাইবার বুলিং, ডিপফেইক, সমন্বিত অনলাইন হয়রানি এবং ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের শিকার হচ্ছেন।
সংস্থাটি জানায়, নারী নেতৃত্ব ও অর্থবহ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ জোরদারে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দিচ্ছে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, সব ভোটার—বিশেষ করে নারীরা যাতে কোনো ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
জাতিসংঘ আশা প্রকাশ করে যে, কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে