৭৪৭ রানের ম্যাচ জিতে ভারতকে সিরিজ হারাল ইংল্যান্ড
দুই দলেরই প্রথম তিন ব্যাটসম্যান পেরোলেন পঞ্চাশ, সেঞ্চুরি পেলেন একজন করে। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় লম্বা সময় সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার ব্যবধানে হারল ভারত। আর হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ট্রফি নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড।
লর্ডসে রোববার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে হ্যারি ব্রুকের দল জিতেছে ২৭ রানে। তিন ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকরা জিতল ২-১ ব্যবধানে।
ক্রিকেট তীর্থে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৮৭ রান তোলে ইংল্যান্ড; ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ। শেষ পাঁচ ওভারেই আসে ৮২ রান।
জবাবে রোহিত শার্মার সেঞ্চুরিতে ৩৮ ওভারে ১ উইকেটে ২৫৩ রান তুলে শক্ত অবস্থানে ছিল ভারত। ৯ উইকেট হাতে রেখে তখন ৭২ বলে দরকার ছিল ১৩৫ রান। কিন্তু পরের ওভারে রোহিত ফিরতেই খেই হারায় সফরকারীরা, শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৩৬০ রানে থামে তাদের ইনিংস।
অবসরের গুঞ্জনের মধ্যে সমালোচকদের জবাব দিয়ে ১৭ চার ও পাঁচ ছক্কায় ১১০ বলে ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রোহিত।
ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেন বেন ডাকেট। ১৮ চার ও এক ছক্কায় ১৩৫ বলে ১৪১ রান আসে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাটে।
আরেক ওপেনার জেকব বেথেল ১১ চার ও দুই ছক্কায় ৯৩ বলে করেন ৯১। পরে বল হাতে সাত ওভারে মাত্র ৪৯ রান দিয়ে তুলে নেন রোহিতের মহামূল্য উইকেটটি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৭৪৭— লর্ডসে কোনো ওয়ানডেতে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল গত বছর ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ৬৫৫ রান। ইংল্যান্ডের যে কোনো মাঠে ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি রানের নজির একটিই— ২০১৫ সালে ওভালে নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে ৭৬৩।
রান তাড়ায় শুবমান গিলকে নিয়ে ভারতকে দারুণ শুরু এনে দেন রোহিত; উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৪৭ রান। ৮৪ বলে ৭৭ রান করে ফেরেন অধিনায়ক গিল।
দ্বিতীয় উইকেটে ভিরাট কোহলির সঙ্গে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন রোহিত। ৫০ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া এই ওপেনার সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৮৪ বলে; লর্ডসে ওয়ানডেতে ভারতের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তিনিই।
তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ছুটছিলেন রোহিত। কিন্তু বেথেলকে ছক্কা মারার পরের বলেই হয়ে যান বোল্ড।
এরপর ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার টিকতে পারেননি। লর্ডসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ১০ ইনিংসে প্রথম ফিফটির দেখা পাওয়া কোহলি চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৬০ বলে ৭৪ রান করে থামলে কার্যত লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে ভারত। লেজের ব্যাটসম্যানদের চেষ্টায় শুধু কমে পরাজয়ের ব্যবধানটুকুই।
৭৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার স্যাম কারান।
এর আগে ডাকেট ও বেথেলের ১৯২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় ইংল্যান্ড। লর্ডসে ওয়ানডেতে এটিই প্রথম দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি। মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটিটি ভাঙেন প্রাসিধ কৃষ্ণা, বেথেলকে ফিরিয়ে।
দ্বিতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে ১০১ রানের আরেকটি জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন ডাকেট। লর্ডসে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়ে ৪৪তম ওভারে বিদায় নেন তিনি।
ব্রুক অবশ্য এদিন ভালো করতে পারেননি। তবে প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ছয় ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়ার কীর্তি গড়েন রুট। ৯ চারে ৪৮ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি; তিন ম্যাচে ২৪৯ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জেতেন এই ব্যাটসম্যানই।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন জস বাটলার; চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে।
ভারতের গুরনুর ব্রার ১০ ওভারে ৯৭ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য। ওয়ানডেতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রান দেওয়ার নজির আছে কেবল দুজনের।
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে জেতার পর ওয়ানডে সিরিজও এবার নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড।
মতামত দিন