মরিনহোর আস্থায় রিয়ালেই থাকছেন এন্দ্রিক, ধারে পাঠানোর ভাবনা বাতিল
রিয়াল মাদ্রিদে এন্দ্রিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আপাতত কেটে গেছে। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে আরেক দফা ধারে পাঠানোর আলোচনা থাকলেও স্প্যানিশ ক্লাবটি এখন তাকে ছাড়তে রাজি নয়। নতুন মৌসুমে দলের পরিকল্পনায় ২০ বছর বয়সী এই তারকাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল। এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে নতুন কোচ হোসে মরিনহোর আস্থার।
২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে এন্দ্রিককে নিয়ে ক্লাবটির অবস্থান স্পষ্ট। ইউরোপের দলবদলের বাজার ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকলেও তাকে অন্য কোনো ক্লাবে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে না রিয়াল। বরং পুরো মৌসুম দলের সঙ্গে রেখে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাই রয়েছে। অনুশীলনে তাঁর পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট মরিনহো।
এন্দ্রিককে মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ডান প্রান্তেও ব্যবহার করতে চান রিয়ালের নতুন কোচ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষও এই তরুণ ফরোয়ার্ডের ওপর আস্থা রাখছে। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কার্লোস এসপি, আরদা গুলার ও ব্রাহিম দিয়াজের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলেও এন্দ্রিককে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখছে কোচিং স্টাফ।
এমনকি এন্দ্রিককে ধারে পাঠানোর সাম্প্রতিক আলোচনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে রিয়াল। মার্কার দাবি, খেলোয়াড় নিজে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে তাকে ধারে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। নতুন মৌসুমে তাঁকে ৯ নম্বর জার্সি দেওয়াকেও ক্লাবের আস্থার বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় গত জানুয়ারিতে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে ধারে গিয়েছিলেন এন্দ্রিক। জাবি আলোনসোর অধীনে রিয়ালের হয়ে খুব বেশি মাঠে নামতে না পারায় বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই তাঁকে ধারে পাঠানো হয়েছিল। লিওঁর হয়ে ২১ ম্যাচে ১৯টি ম্যাচে শুরুর একাদশে থেকে ৮ গোল করার পাশাপাশি ৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই রিয়ালের বর্তমান সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
২০২৪ সালে পালমেইরাস থেকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অবশ্য এন্দ্রিককে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথম মৌসুমে ৩৭ ম্যাচ খেলেও মাত্র আটবার শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। তবু ৭ গোল করে সম্ভাবনার জানান দেন। পরের মৌসুমের প্রথম ভাগে সুযোগ আরও কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ধারে গিয়ে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার রিয়ালের মূল দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ এই ব্রাজিলিয়ান।
মতামত দিন