এপস্টেইন ফাইলে এবার পাওয়া গেল আইসিডিডিআরবি'র নাম
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বহুল আলোচিত এপস্টেইন ফাইলে একটি ই-মেইলে এবার বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি'র নাম উঠে এসেছে। ই-মেইলটির বিষয় ছিল ‘আন্ত্রিক জীবাণুবিদ্যা-আইসিডিডিআরবি’।
ই-মেইলটিতে আইসিডিডিআরবিকে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের একটি প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ই-মেইলটি কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয় ১৭ এপ্রিল ২০১৪ সালে।
এই ই-মেইলে প্রস্তাব করা হয়, বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে ৩ শতাংশ নিশ্চিত লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ই-মেইলে আরও বলা হয়, আইসিডিডিআরবি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০১(সি)(৩) কাঠামোর আওতায় এ ধরনের বিনিয়োগ করছাড়ের সুবিধাও পেতে পারে। প্রস্তাবদাতা এটিকে ‘১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি অংশীদারত্বকে ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এপস্টেইনসংক্রান্ত নথিতে পরে পাওয়া যায় ১৪ জুলাই ২০১৫ তারিখের একটি ‘আইমেসেজ’ কথোপকথন, যা এপস্টেইনের নিজস্ব যোগাযোগ বৃত্তের মধ্যেই হয়েছিল। সেখানে এক অজ্ঞাতনামা সহযোগী এপস্টেইনকে প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে তুমি কী চেষ্টা করেছিলে?’ জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম, মনে আছে—কলেরা ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশে সাহায্য করার জন্য। পরে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও ফলাফল ছিল ভয়াবহ—সবই খারাপ।’
এ ছাড়া এপস্টেইন ফাইলে অন্তর্ভুক্ত আরেকটি ই-মেইলে দেখা যায়, ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে