Views Bangladesh Logo

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো কি না প্রশ্ন উঠতে পারে: টিআইবি

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক’ বলে মূল্যায়ন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় এ নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণভিত্তিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সংস্থাটি জানায়, নির্বাচন শুরুর দিকে তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। দল ও জোটের মধ্যে কোন্দল, অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতার প্রবণতা বেড়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জালভোটের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় টিআইবি। এছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ১২৫টি ঘটনার তথ্য সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

টিআইবি বলেছে, নির্বাচন কমিশন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সক্রিয় ছিল। তবে রাজনৈতিক সংঘাত, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কমিশনের ওপর আরোপিত ক্ষমতার কার্যকর প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। ৯৯ শতাংশ প্রার্থী আচরণবিধির ৫৮টি বিষয়ের মধ্যে কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পেছনে কোনো প্রভাব বা পরিকল্পনা থাকতে পারে, তবে টিআইবির পর্যবেক্ষণে সুনির্দিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলকতার প্রশ্ন আরও সামনে আসতে পারে।

প্রতিবেদনে বিএনপির কয়েকজন নির্বাচিত প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত বিষয়ও উঠে আসে। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি এক বিষয় নয়; আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা ঋণখেলাপি নন।

টিআইবির এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলা হলেও অন্যদিকে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অন্তর্ভুক্তিমূলকতার প্রশ্ন তুলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে অর্থ, ধর্ম, পেশিশক্তি এবং পুরুষতান্ত্রিক প্রভাবের ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার নির্বাচনে ব্যাপকভাবে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ