Views Bangladesh Logo

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু আর নেই

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু মারা গেছেন। আজ (সোমবার) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন এই প্রথিতযশা কবি।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে এবং দ্বিতীয় জানাজা এশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানাধীন খলিলপুরে তার নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজা শেষে তাকে স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

জাহানারা আরজু ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

এই মহীয়সী নারী বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে দীর্ঘকাল নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনা জগতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নারীসম্পাদিত সাহিত্যধারায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

অতি অল্প বয়সে তার সাহিত্য সাধনার সূচনা; ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার কবিতা ও রচনা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।

তার কাব্যকর্মে মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য সমন্বয় লক্ষণীয়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ, স্বচ্ছ ও আবেগঘন ভাষায় রূপ দিয়েছেন।

সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সর্বমোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ