দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আট কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শফিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার অভিযুক্ত আটজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকিউরমেন্ট অফিসার আব্দুল মুনিম, সেকশন অফিসার রিঙ্কু দাস, চৌধুরী রুম্মান আহমেদ, লোকমান আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুরঞ্জিত রঞ্জন তালুকদার, রবিউল আলম বকুল, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রুহুল আমিন।
দুদক সূত্র জানায়, এর আগেও এই মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এর আগে ওই বছরের ২০ এপ্রিল দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি ২০২৩ সালে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ মোট ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে, সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময়ে ২২০ জনকে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা আইনবহির্ভূত।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০১৮ অনুযায়ী অ্যাডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য নিয়োগ ও একবার মেয়াদ বাড়ানোর বিধান থাকলেও তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত ১৪১টি পদে নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে বেআইনিভাবে বেতন-ভাতা প্রদান, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়া পদায়ন এবং বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির অভিযোগও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে