মালদ্বীপে ১০ দিনে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে গত ১০ দিনে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, স্ট্রোক ও হৃদরোগে অন্তত আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাই কমিশন। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভাষ্য, দেশটিতে কর্মরত অনেক প্রবাসী মানসিক চাপ, দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম আয়ের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। তাদের মতে, এসব কারণ স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাই কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মারা যান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৩ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম রওশন। ২৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ৪৫ বছর বয়সী হুমায়ুন কবির স্ট্রোকে মারা যান। ৩০ জুলাই ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৪৫ বছর বয়সী শেখ ফরিদ ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার মধ্যে স্ট্রোকে মারা যান। ২৮ জুলাই কুমিল্লার দাউদকান্দির ৪৭ বছর বয়সী মকবুল মিয়াও স্ট্রোকে মারা যান।
১ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচরের ২১ বছর বয়সী সোলাইমান মাতব্বর কর্মস্থলে ভুলবশত তারপিন পান করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই দিন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ৪৪ বছর বয়সী সায়েদ মোল্লা নিজ বাসায় স্ট্রোকে মারা যান। একই তারিখে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমান নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করছে। এছাড়া ৩ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৭০ বছর বয়সী দেলওয়ারা নবি, যিনি মালদ্বীপের থ্রিটপ হাসপাতালের অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. নবির স্ত্রী।
বাংলাদেশ হাই কমিশন জানিয়েছে, নিহতদের বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে হুমায়ুন কবির ও সায়েদ মোল্লার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মতামত দিন