মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন জেলায় ঈদুল আজহা উদযাপন
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি। বুধবার (২৭ মে) নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরের শতাধিক গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার গিরদান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশক ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন।
অন্যদিকে প্রায় ৯৮ বছরের ঐতিহ্য ধরে পটুয়াখালী জেলার চার উপজেলার অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন। সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়দের দাবি, ১৯২৮ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তারা রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।
এদিকে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরাও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দুই দফায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তারা ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন।
একইভাবে চট্টগ্রাম জেলার শতাধিক গ্রামেও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ পালন করে আসছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানিও দেওয়া হয়।
অপরদিকে দিনাজপুর জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেন।
সব জায়গাতেই ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি সামর্থ্যবান মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে