Views Bangladesh Logo

ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঈদযাত্রায় ভোগাতে পারে যেসব মহাসড়ক

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে আজই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের ছুটি। ফলে আজ রাত থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করবেন লাখো মানুষ।

তবে প্রতি বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, চলমান নির্মাণকাজ, ভাঙাচোরা সড়ক ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানালেও যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ কাটেনি। দেশের বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঈদযাত্রায় বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: পথের বড় বাধা

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১৭টি জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান রুট নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়ক। প্রতি ঈদেই এ সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। এবারও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ নতুন করে ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ধীরগতির আশঙ্কা রয়েছে। বাসচালক হুমায়ন কবীর বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে সড়ক চাপা হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদের সময় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান জানান, সম্ভাব্য সমস্যাগুলো বিবেচনায় রেখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রা মোড়: উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারে চিরচেনা জট

রাজধানীর প্রবেশমুখ গাজীপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩২টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। ঈদ এলেই চন্দ্রা মোড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, চন্দ্রা থেকে যানবাহন টাঙ্গাইলের দিকে পাঠাতে গেলে গোড়াইসহ বিভিন্ন স্থানে যানজট তৈরি হয়। ফলে সেই চাপ আবার চন্দ্রা, নবীনগর ও গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিআরটি সড়কের অসমাপ্ত নির্মাণকাজও ভোগান্তির বড় কারণ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ

ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

এলেঙ্গায় ফ্লাইওভার এবং বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলমান থাকায় যান চলাচল ধীরগতির হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে অবাধে চলাচল করা অটোরিকশা বা ইজিবাইক ঈদযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায়ই এসব যানবাহনের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রতিদিন গড়ে ২০–২৫টি মামলা করা হচ্ছে।

দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম: ২৭টি যানজটপ্রবণ এলাকা

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের বারবকুণ্ড বাজার পর্যন্ত ২৭টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থান হলো—দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, গৌরীপুর বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, নিমসার বাজার, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, মিয়া বাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজার, ফেনীর বিসিক মোড় ও সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড।

ঈদে যানজট ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও ধীরগতির শঙ্কা

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি ঘাটে এখনো মেরামত কাজ চলায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করতে বেশি সময় লাগছে।

বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, বর্তমানে ১৭টি ফেরি সচল রয়েছে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য যানজটের স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা হলো—চলমান নির্মাণকাজ, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও অব্যবস্থাপনার কারণে এবারও ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ