Views Bangladesh Logo

ডিম ও মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি, মাছের বাজারও অস্থিতিশীল

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গত ছয় মাসে ডিম, মুরগি, মাছ এবং বেশ কয়েকটি সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর সংসার খরচে।

আগস্ট মাসের শুরু থেকেই ডিম ও মুরগির দাম বাড়তির দিকে, এরপর আর কমেনি। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ১৩০-১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ১৯০-২০০ টাকা, আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, অতিবৃষ্টি ও তীব্র গরমে বহু খামারে মুরগি মারা গেছে। এরপর অনেক খামারি নতুন করে পালন শুরু করেননি, আবার লোডশেডিংয়ের প্রভাবও উৎপাদনে পড়েছে বলে জানা গেছে।

মাছের বাজারও ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ছয় মাস আগে তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ছিল যথাক্রমে ২০০-২৩০ ও ১৮০-২২০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০-২৬০ ও ২৩০-২৫০ টাকায়। বড় আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—বর্তমানে প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, যা আগে তুলনামূলক কম ছিল।

শীত মৌসুমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু সবজির দামে পরিবর্তন এসেছে। টমেটোর দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—৩০-৪০ টাকা থেকে বর্তমানে ১২০-১৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচ, শিম ও বেগুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে করলার দাম কিছুটা কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। সার্বিকভাবে বেশির ভাগ সবজি এখনো ৬০-৮০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৪ টাকায়। খোলা চিনির কেজি ১০৫-১১০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা। এদিকে সুগন্ধি চালের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছয় মাস আগে যে টাকায় বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা সম্ভব হতো, এখন একই অর্থে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল-ডালসহ অন্যান্য খরচ বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাজেট চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ