বাজেটে শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন: কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ঋণসুবিধা
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। শিক্ষা কারিকুলামে তৃতীয় ভাষা যুক্তের পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ঋণসুবিধা পর্যন্ত একাধিক নতুন উদ্যোগ এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট, যার সম্ভাব্য আকার নির্ধারিত হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে ব্যাপক রূপান্তর আনা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকেও মূলধারার শিক্ষার অংশ করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে বাজেটে।
এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ধারণা প্রবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীদের জন্য চাপমুক্ত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ভাষা শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনবল গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সূত্র জানায়।
নারী শিক্ষা সম্প্রসারণে স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও বাজেটে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশজুড়ে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধা জোরদার করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাকে সামনে রেখে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

মতামত দিন