Views Bangladesh Logo

দেশের অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্র প্রতিবন্ধকতার মুখে

Abdur  Razzaq

আব্দুর রাজ্জাকএর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার

সন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তার আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অথচ ঠিক এক বছর আগে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেঁধে দেয়া, কর-জিডিপি অনুপাতের দুর্বল অবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের অর্থনীতি। ভিউজ বাংলাদেশের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মনে করেন বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম

ভিউজ বাংলাদেশ: বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা কেমন?
আব্দুর রাজ্জাক:
সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে একটু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে, কর-জিডিপি অনুপাত আমাদের আগেই কম ছিল। রাতারাতি সরকারের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কম রাজস্ব আদায় একটা উদ্বেগের কারণ। কতগুলো ক্ষেত্রে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে পারিনি। সীমিত হারে যৌক্তিকীকরণ, ট্যাক্স পলিসি রিফর্ম, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার–এগুলো আমরা ভালোভাবে করতে পারিনি। যখন অর্থনীতির ভালো অবস্থা ছিল, তখন এই সংস্কারগুলো করলে এখন সহজে সমস্যা মোকাবিলা করতে পারতাম। আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশে আগেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা ছিল; কিন্তু এবারই আমরা প্রথমবার দেখছি, রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভিউজ বাংলাদেশ: রাজনীতি, ভূরাজনীতি, কূটনীতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অর্থনীতি কি একটু কম গুরুত্ব পাচ্ছে?
আব্দুর রাজ্জাক:
সত্যিকার অর্থে অর্থনীতি কম গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি তা নয়। অর্থনীতি বর্তমানে একটা চাপের মধ্যে আছে এটা সরকার জানে। কি করতে হবে সে ব্যাপারেও তাদের সম্যক ধারণা আছে। কিন্তু সামনে যেহেতু নির্বাচন, যে কোনো দেশে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সংস্কার করা যায় না। এতে কিছুটা বাধা-বিপত্তি আসবে। কেউ কেউ সংস্কারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এজন্য সংস্কার একটি কঠিন কাজ। অর্থনীতির অবস্থা যখন ভালো থাকে, তখন সংস্কার করতে হয়। আমাদের যখন ভালো সময় ছিল, তখন আমরা করতে পারিনি। ফলে এখন আমরা চাপে পড়েছি। সরকার হয়তো ভাবছে সামনে নির্বাচন পর্যন্ত মোটামুটি চালিয়ে নেই, পরে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া যাবে।

ভিউজ বাংলাদেশ: ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এতে দেশের উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইনের ওপর কি প্রভাব পড়ছে?
আব্দুর রাজ্জাক:
এ মুহূর্তে আমাদের রিজার্ভ কম। সেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি সংকুচিত করে রেখেছে। এটা ছাড়া অন্য উপায়ও ছিল না। আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হয়। এখন আমরা যদি আমদানি সংকুচিত করতে চাই, তাহলে উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেটাই হচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি নিয়ন্ত্রণ করলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ কমে যায়। সুতরাং আমদানি সংকুচিত করলে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্যের দামের ঊর্ধ্বগতি থাকবে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে আমরা আমদানি করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

ভিউজ বাংলাদেশ: বিনিময় হার আটকে রাখা কতটা যৌক্তিক ছিল? এখন বাজারভিত্তিক করলে তার কি প্রভাব পড়বে?
আব্দুর রাজ্জাক:
অর্থনীতিতে যখন প্রবৃদ্ধি হয়, তখন কোনোভাবেই বিনিময় হারকে আটকে রাখা উচিত না। আমরা যদি বিনিময় হারকে আটকে রাখার চেষ্টা করি, তাহলে অন্য অসঙ্গতি তৈরি করতে পারে। অনেক দিন ধরেই আমরা বলেছিলাম বিনিময় হারকে আস্তে আস্তে বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে। দীর্ঘদিন বিনিময় হার একটা অবাস্তব অবস্থানে ছিল। ফলে একেবারে আমাদের বড় ধরনের মুদ্রার দরপতন হয়েছে।
এখন আমরা যদি রাতারাতি বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করতে চাই, সেটাও কোনো সুফল বয়ে আনবে না। হুটহাট করে এটা করতে গেলে ডলারের দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে সেটা বলা মুশকিল। আগে পারিপার্শিক অবস্থা ঠিক করতে হবে। মনিটারি পলিসি ঠিক করতে হবে। বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করতে হলে সুদের হারকেও বাজারভিত্তিক করতে হবে। তা না হলে মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেশি হারে বাড়বে। বর্তমানে ডলারের দাম ১২০ টাকা এবং বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে ধরে নিলাম তা ১৪০ টাকা হয়ে গেল। এটা আবার মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে সুদের হার যদি এখন ১০ শতাংশ থাকে, সেটা বাড়িয়ে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ করতে হবে। তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এটা করতে হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে। শুধু যদি বিনিময় হার বাড়ানো হয় তাহলে আমরা ভালো করতে পারব না।

ভিউজ বাংলাদেশ: রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে কমছে। এর কারণ কি এবং এটা আগামী বাজেটের সময় কোন অবস্থায় থাকতে পারে?
আব্দুর রাজ্জাক:
আগামী বাজেটের আগে সামষ্টিক অর্থনীতির যে মৌলিক বিষয়গুলো কতটা স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারব, তার ওপর নির্ভর করবে রিজার্ভ কেমন থাকবে। সরকার প্রতিবছরই বৈদেশিক সহায়তা পেয়ে থাকে; কিন্তু এ বছর সেই প্রবণতা আগের বছরের চেয়ে বেশ কমেছে। সেটা যদি আমরা আনতে পারি, তাহলে রিজার্ভ এবং বিনিময় হার ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া সরকার কিছু দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ বা রিজার্ভকে সচল করার জন্য সহায়তা আনতে পারে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রিজার্ভকে সচল করেছে পাকিস্তান। আমাদের এসব ভেবে দেখতে হবে।

ভিউজ বাংলাদেশ: পুঁজিবাজারে লেনদেন এখন তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে করণীয় কি?
আব্দুর রাজ্জাক:
পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দীর্ঘদিনের। তা আমরা দূর করতে পারিনি। পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানিগুলো আসার ক্ষেত্রে আমরা কোনো আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারিনি। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করে পরে তা বিনিয়োগ করার মডেল আমরা তৈরি করতে পারিনি। ধরেন, একটা কোম্পানি যদি পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসা করে ভালো মুনাফা অর্জন করে এবং তার শেয়ারহোল্ডারদের যদি ভালো লভ্যাংশ দিতে পারত; তাহলে অন্য কোম্পানিগুলোও এগিয়ে আসত। কিছু কোম্পানি আছে, যারা ক্রেডিট লাইনে ভালো করেছে; কিন্তু যদি প্রতিনিয়ত পুঁজিবাজারে নতুন নতুন ভালো কোম্পানি এলে এবং তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দিলে তাতে কাজ হতো।

ভিউজ বাংলাদেশ: রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে কোনো ত্রুটি আছে কি না?
আব্দুর রাজ্জাক:
নীতি প্রণয়ন যে খুব ভালো তা না। নীতির ত্রুটি আছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে মূল সমস্যা বাস্তবায়নে। আমরা করজাল সম্প্রসারণের কথা বারবার বলেছি। অর্থনীতিতে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সে হিসেবে করজাল আরও অনেক বড় হতে পারত। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে অন্য যেসব এলাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেসব এলাকা থেকে আমরা সে অনুযায়ী কর আহরণ করতে পারছি না। ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় ভ্যাট নেয়া হচ্ছে কিন্তু প্রদান করা হচ্ছে না। ইএফডি মেশিন দিচ্ছে কিন্তু ভ্যাট আদায় বাড়ছে না। কারণ তদারকি হচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রে অনেককে কর অব্যাহতি দিয়ে দেয়া হয়। এটাও যৌক্তিক করা উচিত।

ভিউজ বাংলাদেশ: শ্রমিক আন্দোলনের পর পোশাক খাতের অবস্থা অনেকটাই টালমাটাল। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞারও ভয় আছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আব্দুর রাজ্জাক:
আমাদের পোশাক খাত অনেক সম্ভাবনাময়। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পোশাক খাতের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে দিয়েছে। কারখানায় অনেক শ্রমিক কাজ করে। কাজেই শ্রমিকদের অবস্থা, কর্মপরিবেশ ও কারখানার সামগ্রিক নিরাপত্তা–এ ইস্যুগুলো সবসময় থাকবে। কারখানার পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। এখন আমরা ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি। ভবিষ্যতে যদি আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি হতে চাই। তখন সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিকরা কত বেতন পায়? ১০০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে যদি শ্রমিকরা ১০০ ডলারেরও কম মজুরি পায়, এটা কিন্তু বিশ্ববাজারের লোকজন মানবে না। যদিও আমরা সস্তায় কাপড় বিক্রি করি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি পরিষ্কার না, আসলে তারা কী করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু আমাদের কোনো জিএসপি সুবিধা নেই, সেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে আমাদের ভালো বাজার সুবিধা লাগবেই। সেক্ষেত্রে শ্রমিকের ইস্যু, মানবাধিকারসহ প্রায় ৩২টি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন আমাদের মানতে হবে। এরপর তারা বিবেচনা করবে আমাদের তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে কি না। এ ছাড়া এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর কানাডার বাজারে আমাদের শুল্ক বাড়বে। তারাও বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।
পোশাকের বাজারে বর্তমানে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে আছে চীন; কিন্তু বিশ্বব্যাপী চীনের মার্কেট শেয়ার কমছে। ২০১০ সালে ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের বাজারে চীনের শেয়ার ছিল ৪০ শতাংশ। এখন তা কমে হয়েছে ২৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২২। চীনের এই শেয়ার আরও কমবে। তখন চীনের এই জায়গাটা কে পূরণ করার বিকল্প হিসেবে আছে–ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ভারত। এই বাজারটা আমাদের ধরতে হবে।

ভিউজ বাংলাদেশ: রেমিট্যান্স আদায়ের গতিতে টান পড়েছে। সঠিক নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি প্রবাসীদের আস্থাহীনতা কি এখানে প্রভাব ফেলেছে?
আব্দুর রাজ্জাক:
এখানে আস্থাহীনতার কোনো ব্যাপার নেই। ইনফরমাল চ্যানেলে লেনদেন বেড়েছে। কি পরিমাণ টাকা বাইরের থেকে আসে, কেন আসে? জিনিসটি বুঝতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই কে দোষী, কে কেন পাঠাচ্ছে, শাস্তি দেয়ার চিন্তা করে। এগুলো না করে আগে বাজারটা বুঝতে হবে। আমরাতো জানি না কি পরিমাণ টাকা বাইরে থেকে দেশে আসে। এ ধরনের কোনো গবেষণা নেই। এ বিষয়ে গবেষণা থাকলে আমরা বলতে পারতাম, যারা বিদেশে থাকে তারা, কি পরিমাণ টাকা দেশে পাঠায়? বাংলাদেশে ব্যাংক কখনোই এমন গবেষণা করেনি। বাইরে আমাদের কি পরিমাণ শ্রমিক কাজ করে, তারা গড়ে কত টাকা পায়। আমরাতো জানি না, আমাদের হুন্ডির বাজার কত বড়? না জানলে পদক্ষেপ কীভাবে নেবেন। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা সেভাবে বাড়েনি।

ভিউজ বাংলাদেশ: বাজারে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন?
আব্দুর রাজ্জাক:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটা মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমদানিকে সংকুচিত করলে এটা মূল্যস্ফীতিতে একটা প্রভাব ফেলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সরকার যদি আমদানির ক্ষেত্রে একটু উদার হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। যেমন-ডিম আমদানির ঘোষণার সাথে সাথেই ডিমের দাম কমে গেল; কিন্তু আপনি চাইলেই সব জিনিস আমদানি করতে পারবেন না, যেহেতু রিজার্ভ কম। এ জন্য বলছি নির্দিষ্ট কিছু পণ্য। যে পণ্যগুলো কিনবে নিম্ন আয়ের মানুষ। সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমদানি সংকোচনের পাশাপাশি আমদানির শুল্কহারকে যৌক্তিক করা যেতে পারে। এতে দামটা কমতে পারত। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ চেইনে যাতে কোনো প্রকার আঘাত না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধরেন কুষ্টিয়া থেকে একটা জিনিস যাতে খুব সহজে ঢাকায় আসতে পারে, কোনো চাঁদাবাজি ও অন্যকোনো সমস্যা না হয়। সিন্ডিকেট যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এ সবই আমরা করতে পারি, যদি আমাদের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান থাকে। যে প্রতিষ্ঠানের যে দায়িত্ব, তারা যেন তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।

ভিউজ বাংলাদেশ: অর্থনীতির চাকাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে করণীয় কী?
আব্দুর রাজ্জাক:
এ মুহূর্তে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। বিনিময় হার নির্ধারণ ও রাজস্ব আহরণে ব্যাপকভাবে সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এমনভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের পুরো অংশটাই সরকারকে দেনা করে করতে হয়। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে যে দেনা করছে, তার সুদের হার অত্যন্ত বেশি। কাজেই সরকারকে বর্তমানে ব্যয়টাকে যৌক্তিক করতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। নন-পারফর্মিং লোন অনেক বেড়ে গেছে। কাজেই ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা ঠিক করতে হবে। এই চার-পাঁচটি জায়গায় আমাদের ভালো সংস্কার করতে হবে। ক্রাইসিসিকে সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।

ভিউজ বাংলাদেশ: দীর্ঘ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আব্দুর রাজ্জাক:
আপনাকেও ধন্যবাদ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ