স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, থাকছে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের জন্য নতুন নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট শর্তে বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের আচরণবিধি ২ সেপ্টেম্বর এবং অন্য চার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধি ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গেজেট এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধিমালায় প্রচারসামগ্রীর আকার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ ফোর আকারের এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হতে পারবে।
বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। প্রচারসামগ্রী সাদাকালো রাখতে হবে। এতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ছবি বা বিষয় রাখার সুযোগ থাকবে না। পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করে প্রচার চালানো যাবে না।
বিলবোর্ড ব্যবহারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে। পৌরসভায়ও প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়নে একটি, পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি এবং পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমতি থাকছে।
প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে প্রচার বা ভোটারদের প্রভাবিত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভোটার বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সংগ্রহ করে প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি ভঙ্গের শাস্তি হিসেবে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান বহাল রাখার পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে।
প্রচারে মাইক ব্যবহারের সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এ সময় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ যান ব্যবহার করেও প্রচার চালানো যাবে। একজন প্রার্থী একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য সার্কিট হাউস, রেস্ট হাউস ও ডাকবাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও নতুন বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।
মতামত দিন