৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের অনুমোদন ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৪২টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৯টি আসনে সীমিত আকারে সীমানা সংশোধন করার অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। এ সময় ইসির সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব জেলায় ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে একটি আসন বাড়ানোর এবং সবচেয়ে কম ভোটার সংখ্যার জেলায় একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, '৬৪ জেলার গড় ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ জন। গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো এবং বাগেরহাটে একটি কমানো হলে এই গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আসে। ফলে কেবল এই দুই জেলার আসন সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে। বাকি ২৫০টি আসনে কোনো আপত্তি না থাকায় বর্তমান সীমানাই বহাল রাখা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, সীমা সংশোধনের প্রস্তাব করা ৩৯টি আসন হলো:
পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।
তিনি বলেন, 'এই ৩৯ থেকে ৪২টি আসনের মধ্যে ছোট-বড় কিছু সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের আসন বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'
সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির হাতে উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ১৬ জুলাই ভূগোলবিদ, নগরবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। তারা দেশের ৩০০টি আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়।
কমিটি আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামো, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আদমশুমারির তথ্য বিবেচনায় রেখে সীমানা নির্ধারণ করেছে।
ইসি জানিয়েছে, খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে আপত্তি বা দাবি জানাতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। পরে আসনভিত্তিক শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপত্তির পরিমাণ কম হলে দ্রুতই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে