ইস্টার্ন রিফাইনারি সীমিত চললেও জ্বালানি সংকট হবে না: মন্ত্রণালয়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড অয়েল আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে সীমিত সক্ষমতায় বা ‘লো-ফিডে’ চালু রয়েছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করায় দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ইআরএল মূলত সৌদি আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে পরিশোধন করে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পেট্রোল চাহিদার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ সরবরাহ করেছে ইআরএল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ ও এপ্রিলে নির্ধারিত মোট ৩ লাখ টন ক্রুড আমদানি ব্যাহত হয়েছে। মার্চে একটি এরাবিয়ান লাইট ক্রুড কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী পার হতে পারেনি এবং বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। মারবান ক্রুডের দ্বিতীয় চালানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে।
এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সামলাতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ টন ক্রুড বিকল্প রুটে আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। মে মাসে অতিরিক্ত ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লাখ টন ক্রুড আমদানিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইআরএলের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি দুটি চালু রয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্রুড সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে