বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ
আজ ২২ এপ্রিল, বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী’।
১৯৭০ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর গে লর্ড নেলসনের উদ্যোগে প্রথম ধরিত্রী দিবস উদযাপিত হয়। তখন থেকেই পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার ও জলবায়ু সংকট নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ধরিত্রী দিবস। বর্তমানে ১৯৩টিরও বেশি দেশে এই দিবসটি পালন করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ—এই সব পরিবেশগত সংকটে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিয়মিত বর্ষণ, কৃষি উৎপাদনের হ্রাস ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।
বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে গ্রীনহাউস গ্যাসের মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম নিঃসরণ করে, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব এখানেই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সৌর, বায়ু ও জৈব জ্বালানির মতো উৎস পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
২০২১ সালে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর ছাড়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল গঠন এবং বাধ্যতামূলকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনের মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উপকূল, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব ধরিত্রী দিবস সেই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকের সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তা দেয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে