৭ মার্চ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ফেলে যাওয়া হয় থানায়
৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সেহরির টেবিল থেকে তুলে মারধর করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থী সেহেরি খেতে বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলের ক্যান্টিনে বসেছিলেন। সেখান থেকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে যান জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা।
রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ঘটনাটি ঘটে।
পাভেলের সহপাঠীরা জানান, পাভেলের বাবা নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে তিনি সংসারে সহায়তা করেন। মারধরের পর পাভেলের ফোন, মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড ও বাইকের চাবিও কেড়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাভেল অভিযোগ করেন, ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা হাসিব আল ইসলাম, খালিদ সাইফুল্লাহ ও শুভসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনা স্বীকার করে পোস্টও দিয়েছেন খালিদ সাইফুল্লাহ। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়ে সেহরি করলাম, আলহামদুলিল্লাহ।’ তার পোস্টে শাহবাগ থানায় একটি গাছের নিচে বসে থাকা পাভেলের ছবি শেয়ার করা হয়।
পাভেল বলেন, বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলের ক্যান্টিনে সেহেরি খাওয়ার সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। পরে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে কিল-ঘুষি, লাথি ও বিভিন্ন বস্তু দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং মুখে রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে শাহবাগ থানার সামনে রেখে যাওয়া হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। পাভেলও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাভেল বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত ক্লাস করি। আপনারা চাইলে দর্শন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
রাহিদ খান পাভেল বলেন, আমার ফোন, মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, বাইকের চাবি নিয়ে নিয়েছে। বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে পাওয়া যাবে কারা মেরেছে। আমি বলেছি আমার অপরাধ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরের কাছে দেন। কিন্তু ওরা আমাকে মারধর করে শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে গেছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, পাভেল জিয়া হলে থাকে। গত জুলাই আন্দোলনে সে হামলাকারী ছিল। ডিপার্টমেন্ট থেকেও সে বয়কটেড। এর আগে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দিয়েছিল।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহবাগ থানার এসআই কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্ররা ওই শিক্ষার্থীকে (পাভেল) ধরে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় নিয়ে আসা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সাথে থানার কোনো কথা হয়নি। বিষয়টা জানি। কিন্তু পুলিশ কী করবে, বিষয়টি পুলিশ দেখবে। সে যদি মামলার আসামি হয় বা অপরাধী হয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে