৭ মার্চ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ঢাবি ছাত্রকে মারধর, মামলা করল পরিবার
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সমাজমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় অভিযোগপত্র জমা দেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি সেহরি খাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন। পথে তিনি শাহবাগ থানার অধীন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাস সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন।
পাভেলের পরিবার অভিযোগ করেছে, সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম শুভ, মো. সাকিব, ফোরকান উদ্দীন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল, সঞ্জীব হোসেনসহ আরও ১০–১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুল্লাহ লোহার রড দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে হাসিব-আল-ইসলাম পেছন দিক থেকে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তা তার বাম কানে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময়ে অন্যরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
পাভেল পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে এসএম হলের সামনে ফেলে পুনরায় মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগের নগদ পাঁচ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও একটি এটিএম কার্ড নিয়ে যায়।
পরে এক রিকশাচালক আহত অবস্থায় পাভেলকে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে আরও মারধর করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
শাহবাগ থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে