Views Bangladesh Logo

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্প্রতি যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তার কয়েকটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি, স্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট মল চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত ‘টিচিং ইভ্যালুয়েশন’ নীতিমালা রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদের আলাদা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই। ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিকেও গুরুতর হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, ডাকসু শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সমান্তরাল বা ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ, পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ