Views Bangladesh Logo

সূচক পড়লেও বাজার মূলধন বাড়ল আড়াই হাজার কোটি টাকা, ডিএসইতে মিশ্র চিত্র

দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই মূল্য সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী, আর দাম বাড়ার তালিকায়ও নাম লিখিয়েছে তুলনামূলক বেশি প্রতিষ্ঠান। এর প্রভাবে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সার্বিকভাবে সপ্তাহ শেষে কমেছে প্রধান মূল্য সূচক।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২২টির দাম ছিল অপরিবর্তিত। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১৪ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহেও বাজার মূলধন বেড়েছিল ৩ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা, ফলে টানা দুই সপ্তাহে মোট বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন বাড়লেও গত সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকে দেখা গেছে পতনের চিত্র। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৪ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৯ শতাংশ। অথচ এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৯১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ১৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ, যেখানে আগের সপ্তাহে এটি বেড়েছিল ১২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ, আগের সপ্তাহে যা বেড়েছিল ২৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার—প্রতিদিন গড়ে ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার, আর তৃতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের গড় দৈনিক লেনদেন ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে একমি পেস্টিসাইড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল, ফারইস্ট নিটিং, এসিআই ফরমুলেশন এবং বেক্সিমকো।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ