অকেজো স্ক্যানারে বেনাপোলে বাড়ছে মাদক চোরাচালান
তিনটি স্ক্যানিং মেশিন অকেজো থাকার সুযোগে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী চক্র। মাদক চোরাচালান বেড়ে গেলেও তা দমনে উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সাম্প্রতিককালে বন্দরে ফেনসিডিলের বোতল ও অন্য মাদকদ্রব্য জব্দের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী ট্রাক স্ক্যানিংয়ে বসানো হয়েছিল পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্ক্যানার তিনটি। ব্যয়বহুল স্ক্যানারগুলো অকেজো হওয়া এবং পর্যাপ্ত স্ক্যানিং মেশিন না থাকাকে দায়ী করে প্রায়ই পণ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলছেন অনেকেই।
ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনাপোল বন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় ৩৭৫টি সিসিটিভি সচল, গোয়েন্দা তথ্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা প্রিমার কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও মাদকপাচারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
বন্দর সূত্রের অভিযোগ, বর্তমানে ১৬৩ জন আনসার সদস্য, ৪২ জন এপিবিএন সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রিমার ১২৯ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। রয়েছে ৩৭৫টি সিসিটিভিও। তারপরও মাদকপাচার প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে অপরাধীদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বন্দরের ৫ নম্বর গেটে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধাওয়া করে ৪৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করেন আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আনসার কর্মকর্তা হেলালুজ্জামান জানান, একটি ট্রাকের আশপাশে কয়েকজনের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তারা ৪৯টি ফেনসিডিলের বোতল পান। পরে সেগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (ডিএনসি) হস্তান্তর করা হয়।
এর আগেও গত ২ জুলাই ওই কাঁচামাল ইয়ার্ডে আমদানি করা ভারতীয় পণ্য থেকে ৯৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়।
কিছুদিন আগে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজারের অফিস থেকে দুটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন গায়েব হয়ে যায়।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ার আলী অনু জানান, ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বা সীমান্তে মাদক সংগ্রহের পর সারাদেশে ছড়িয়ে দেয় চোরাকারবারিরা।
তার অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্থলবন্দরটিকে চোরাচালানের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করে আসছে পাচারকারীরা।
মাদক চোরাচালান রোধে স্ক্যানিং মেশিন সচলে গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান।
বন্দরের উপ-পরিচালক রাশেদুল সজীব নজির বলেন, নিষ্ক্রিয় স্ক্যানার মেশিনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে