কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেস সচিবকে ড ইউনূসের উপ-প্রেস সচিবের হুমকি
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হতো বলে সম্প্রতি কিছু অভিযোগ উঠেছে। এবার বাংলাদেশি প্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুলকারনাইন সায়ের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে এই অভিযোগের পক্ষে একটি পোস্ট দেন। সেখানে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদার কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারেক চয়নকেও 'হুমকি' দিয়েছিলেন। পোস্টের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে আজাদ মজুমদারের সঙ্গে তারেক চয়নের কথোপথনের একটি অডিও সংযুক্ত করেন তিনি।
বুধবার (৬ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া সেই পোস্টে সাংবাদিক সায়ের বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং থেকে দেশ-বিদেশের নানা মানুষকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হতো এবং বর্তমান সরকারি দল বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানে সংশ্লিষ্টতা খাটো করার একটা প্রবণতা তাদের মধ্যে কাজ করত। যার একটি প্রমাণ আজ তুলে ধরছি।’
তিনি জানান, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেসসচিব তারিক চয়ন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদারের কথোপকথনের এই রেকর্ডটি ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই ধারণ করা। তার ঠিক এক বছর আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (গণ-অভ্যুথান চলাকালীন) তারিক চয়ন আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকারকর্মীর কাছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের খবর এসএমএসের মাধ্যমে (তখন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল) প্রেরণ করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১৯ জুলাই তারিক চয়ন সেই এসএমএস গুলোর স্ক্রিনশট নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে স্মৃতিচারণা করেছিলেন। তারিক এই পোস্টটি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আজাদ মজুমদার তারিক চয়নকে ফোন করে এক পর্যায়ে বলেন, ‘আপনি যে ফেসবুকে লিখলেন বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ! এটা তো বিএনপির আন্দোলন ছিল না।’
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ‘আলাপের রেকর্ডটি হাতে আসার পর এ বিষয়ে তারিক চয়নের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে কিছু বলতে ইতস্তত বোধ করেন। তবে এক পর্যায়ে বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এটিই প্রথম নয়।'
'এর আগের মাসে (২০২৫ সালের ২২ জুন রাতে) তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য (বর্তমান অর্থমন্ত্রী) আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে পরদিন (২৩ জুন) সকালেই আজাদ মজুমদারের ফোন আসে। তিনি এ বিষয়ে জবাবদিহি চান যে কেন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকারের চাকরি করে তারিক চয়ন বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। তখন তারিক চয়ন তার কাছে পাল্টা জানতে চান, ‘আপনি যেই গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলছেন সেই গণ-অভ্যুত্থানে কি বিএনপি অংশ নেয়নি? আমি নিজেও তো অংশ নিয়েছি সাংবাদিক হিসেবে, মানবাধিকারকর্মী হিসেবে, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে।’
এব্যাপারে তারিক চয়ন ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, আমির খসরুর সঙ্গে ওই ছবিটি ডিলিট না করার কারণে তাকে পরবর্তীতে বড় ধরনের মাসুল দিতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, 'কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের অসাধু অফিসারদের ঢাকার প্রেস উইং থেকে অলিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন আমাকে সব কাজে অসহযোগিতা করে ব্যাপক চাপে রাখা হয়।'
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজাদ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'এব্যাপারে আমার কিছুই বলার নাই।'

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে