এশিয়ার সম্মিলিত অগ্রযাত্রার আহ্বান ড. ইউনূসের
এশিয়ার দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে আঞ্চলিক সমৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানো ও যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) টোকিওতে আয়োজিত ‘৩০তম নিক্কেই ফোরাম: ফিউচার অব এশিয়া’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, ‘এশিয়াকে সামনে তাকাতে হবে সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। একসঙ্গে কাজের মাধ্যমেই আমরা অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারি।’
তিনি এশিয়ার যৌথ ভবিষ্যতের পথনির্দেশনায় সাতটি কৌশল প্রস্তাব করেন, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার, অধিকতর অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই উন্নয়ন চর্চা।
এশিয়ার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈচিত্র্যকে তিনি একদিকে শক্তি আবার অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই পারস্পরিক নির্ভরতা কার্যকর সহযোগিতায় রূপান্তরের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
‘এশিয়ার উন্নয়ন অর্থায়নের জন্য টেকসই কাঠামো প্রয়োজন,’ বলেন ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দায়িত্বের নেতৃত্ব নিতে হবে।’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক সংযোগের দিক থেকে এশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যতম পশ্চাৎপদ অঞ্চল। আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই একত্রীকরণ গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—এখনো বহু মানুষ সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, এবং নানা ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারাই। আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে শুধু অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ব্যবসা এবং প্রযুক্তিতেও।’
ড. ইউনূস বুধবার (২৮ মে) টোকিও পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে