ঐতিহাসিক প্রথম বিশ্বকাপ গোলে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই উপহার দিয়েছে পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়, যেখানে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। মাত্র ৬ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায় জোয়াও নেভেসের গোলে। পেদ্রো নেটোর নিখুঁত ক্রস থেকে পাওয়া বলটি দুর্দান্তভাবে হেডে জালে পাঠান নেভেস। শুরুর এই গোলের পর পর্তুগাল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে এবং একাধিক আক্রমণ তৈরি করে ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে।
তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ডিআর কঙ্গো। মাঝমাঠে বল দখল বাড়িয়ে তারা পর্তুগালের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে শুরু করে। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও সেট-পিসে তারা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে সমতাসূচক গোল। ৪৫+৫ মিনিটে কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে আর্থার মাসুয়াকু শর্ট কর্নার নেন। এরপর ন্যাংগাল’আয়েল মুকাউ চমৎকারভাবে বল ক্রস করেন বক্সের ভেতর। সেখানে কোনো মার্কিং ছাড়াই থাকা ইয়োয়ানে উইসা নিখুঁত হেডে বল পাঠান জালের ওপরের কোণে, যেখানে পর্তুগিজ গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তার কিছুই করার ছিল না।
এর আগে ঠিক কিছু মুহূর্ত আগে সামুয়েল মুতুসামি একটি শক্তিশালী শট নিয়ে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, যা পর্তুগালের রক্ষণভাগকে সতর্ক করে দেয়।
এই গোলটি ডিআর কঙ্গোর জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় গোল। অন্যদিকে, পর্তুগালকে ম্যাচে পাওয়া লিড ধরে রাখতে না পারায় কিছুটা হতাশায় পড়তে হয়।
ম্যাচটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কারণে, যিনি রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিচ্ছেন এবং দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার উপস্থিতি ম্যাচটিকে বাড়তি আকর্ষণ এনে দিয়েছে।
প্রথমার্ধ শেষে ১–১ সমতায় থাকা এই ম্যাচ দ্বিতীয়ার্ধে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে দুই দলই জয় নিশ্চিত করতে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পারে।
মতামত দিন