Views Bangladesh Logo

শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: ফজলুর রহমান

শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম।

তিনি বলেন, আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ।


ফজলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালনগীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য।

তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেব, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেব। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।

‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হয়েছে’ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইলেকশনে তারা কী করেছে, আজকে যারা আমার ডানদিকে বসে আছে তারা কী করেছে? আমরা তো ভাই ছিলাম। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। যত চক্রান্ত করেছে, সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেয়ে পাস করবে।

তিনি আরও বলেন, আমি হতভাগা ফজলুর রহমান বলেছিলাম জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। এই কথাটা আমি বলেছি। কথা সত্য, তারা কোনো দিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে নাই, কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই।


তিনি বলেন, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, তাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু তার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম— এবং উনি যে বলছেন, ওইদিন বললো যে আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সব পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সনের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউজে প্রস্তাব হয়েছে—তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাস ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নেই। আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গে্লো কোথায়? ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনও আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এক সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সর্বশেষ কথাটি হলো, আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি যাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। দেশের ভেতরে যতই চক্রান্ত হোক, আমার নেতা সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। সমান সমান ভাগ দিয়ে কমিটি করেছেন। আমি আমার নেতাকে বলবো, তার মা কিন্তু একসঙ্গে দুধ খেয়েছেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল। এই কথাটি বলেই আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ