২৩ বছরের সাফ খরা কাটাতে ডুলির লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা
২০০৩ সালে ঘরের মাঠে একমাত্র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই ট্রফি আর স্পর্শ করা হয়নি লাল-সবুজের দলটির। তবে এবার হামজা-শমিতদের নিয়ে গঠিত নতুন দল এবং প্রধান কোচ থমাস ডুলির ছোঁয়ায় সেই অধরা ট্রফি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের (সার্ক) সাতটি দেশের দূতাবাস ও ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটির মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর ফের বাংলাদেশে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহৎ ফুটবল আসর।
লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন কোচ থমাস ডুলি বাংলাদেশ দলের মানসিকতা এবং মাঠের পরিকল্পনার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে শিরোপা জয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিপক্ষকে বড় না ভেবে নিজের দলের মানসিকতার উন্নয়নের দিকে নজর দিতে চান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ থমাস ডুলি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই, প্রতিপক্ষ জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা হোক বা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের আশেপাশের কোনো দল হোক।’
তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের চমৎকার সমন্বয়ে দল গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ফুটবলারদের শতভাগ উজার করে খেলার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিনোদনধর্মী ফুটবল উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
কোচের ভাষায়, ‘আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই, যাতে দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যান। তারা যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেন। তারা যাতে বলেন, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই যাতে দর্শকরা জয় নিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরতে পারেন।’
ঘরের মাঠে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আক্ষেপ মেটাতে ডুলির নজর কেবলই ট্রফিতে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদের কাছেও আমার একটাই বার্তা– মাঠে নেমে, নিজের যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। এর আগ পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। তবে এদের ভুল হতেই পারে। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করেন।”
ঘরের মাঠে গ্যালারিতে সমর্থকদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলেও বিশ্বাস করেন এই কোচ। সমর্থকদের মাঠে এসে দলকে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পথ সুগম করতে দলকে সেরা প্রস্তুতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। এর বাইরে আরও একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। আগামী ১ আগস্ট ভুটানের থিম্পুতে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
মতামত দিন