ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ, মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট
নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক কওমি মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার মামলায় প্রধান আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুরসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোণা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।
পুলিশ জানায়, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে গেছে। আদালতের নির্দেশে সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই মো. আক্তারুজ্জামান অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেন।
মামলায় অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাট বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। ভয়ভীতির কারণে শিশুটি বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে ঘটনা জানাজানি হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় মামলা করেন।
মামলার পর র্যাব-১৪-এর একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুটির সঙ্গে প্রধান আসামির পিতৃত্বের মিল পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়া হলো।
বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সন্তান সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছে।
মতামত দিন